ফাতিমা তাসনিম জুমা
ফাতিমা তাসনিম জুমা
ফলো করুন:
ব্যালট নং ০৯
মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক
পদপ্রার্থী
ফাতিমা তাসনিম জুমা
ফলো করুন:

ইনকিলাব মঞ্চের সাহসী নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা সবসময় সামনে থেকে জুলাই স্পিরিটের আগুন জ্বালিয়ে রেখেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর অটল অবস্থান, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও গণতন্ত্রের স্বপ্নকে প্রজন্মের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত করতে তিনি ছিলেন নিরলস সংগ্রামী। আজ তিনি ডাকসু ২০২৫ নির্বাচনে এসেছেন নতুন অঙ্গীকার নিয়ে একটি স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ার শপথ নিয়ে যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী সম্মান, নিরাপত্তা আর সমান সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যাবে ভবিষ্যতের পথে। এই লড়াই শুধু একটি পদ অর্জনের জন্য নয় এটি আমাদের প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণের আন্দোলন। স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ার পথযাত্রী, আমরা থামব না।

✦ মুক্তির ৯ দফা ✦

১. বীরশ্রেষ্ঠদের স্মরণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন যে কোনো একটি হলকে জাতির সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের নামে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হল’ হিসেবে নামকরণ করে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতি অমর করে রাখা।

২. বিজয়কে জনতার করে তোলা

২৫ মার্চ, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরসহ মুক্তিযুদ্ধের সব ইভেন্টকে জনপরিসরে নিয়ে গিয়ে জনগণকে সরাসরি যুক্ত করা। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে নতুন প্রজন্মকে সংযুক্ত করতে ঘটনাগুলো মোবাইল গেইম, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) বা Augmented Reality (AR)-এর মাধ্যমে পুনরায় রিকল করা ও এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে রিক্লেইম করা। জণগণের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী, আড্ডা ও আলোচনার আয়োজন।

৩. বস্তুনিষ্ঠ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস

মুক্তিযুদ্ধকে আওয়ামীকরণ, ব্যবসায়ীকরণ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে স্বাধীন কমিশন গঠন। কমিশনের অন্তর্ভুক্ত হবেন গবেষক, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা। গবেষণা, সার্ভে ও ট্রুথ-ফাইন্ডিংয়ের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস প্রকাশ। প্রয়োজনে ডোর-টু-ডোর সার্ভে চালু করে সত্য উদঘাটন।কমিশনের তথ্য ও গবেষণা ওপেন-অ্যাকসেস ওয়েবসাইট-এ প্রকাশ।

৪. মুক্তির সংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস

১৯৪৭, ১৯৭১, ২০২৪ সহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে মূলধারায় তুলে ধরা। বীরাঙ্গনা ও সংগ্রামী নারীদের গল্প আর্কাইভ করা। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতিটি সংগ্রামে রক্তদানকারী সন্তানদের ত্যাগকে জাতীয় চেতনায় স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা।

৫. ২০২৪ আন্দোলনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

২০২৪ সালের আন্দোলনের উপর গবেষণা, প্রকাশনা, শিল্প ও চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া। জুলাই শহিদদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও আহতদের সামাজিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। ইতিহাস বিকৃতি ঠেকিয়ে ২০২৪-কে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজ, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও জেন্ডার স্টাডিজ কোর্সে ২৪ নিয়ে পৃথক মডিউল যোগ করা।

৬. নারী ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা

জুলাই-পরবর্তী সময়ে এগিয়ে আসা নারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অঙ্গনকে বিষাক্ত করার চেষ্টা প্রতিহত করা। দলীয় বিভাজন নির্বিশেষে নারীর প্রতি স্লাটশেমিং, যৌন হয়রানি ও অন্যান্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক গণআন্দোলন গড়ে তোলা । ১৫ জুলাই নারীসহ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার বিচার তরান্বিত করা।

৭. সংস্কৃতি ও গবেষণার স্বাধীন চর্চা

বাংলাদেশপন্থী সাহিত্য-সংস্কৃতি ও গবেষণা বিকাশে ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক’ ও ‘গবেষণা সম্পাদক’-এর সাথে সমন্বয় করে কাজ করা। গবেষণা পেপার, থিসিস, টার্ম পেপারের বিষয় হিসেবে ৭১, ২৪ ও অন্যান্য আন্দোলনকে উৎসাহিত করা। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একাডেমিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, যাতে তারা ২৪ ও অন্যান্য অর্জন নিয়ে গবেষণা করতে পারে।

আধিপত্যবাদ ও সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবিরাম বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম চালানো।

৮. তরুণদের আন্দোলনের স্বীকৃতি

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, নো-ভ্যাট আন্দোলন, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনসহ তরুণদের অবদানকে একাডেমিক গবেষণার অন্তর্ভুক্ত করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আর্কাইভ সেন্টার’ স্থাপন, যেখানে আন্দোলনের ফটো, ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার, পত্রিকা প্রতিবেদন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দলিল সংরক্ষণ করা। দেশি–বিদেশি গবেষকদের জন্য ওপেন অ্যাকসেস ডাটাবেস তৈরি।

৯. বৈশ্বিক সংহতি

ফিলিস্তিন, কাশ্মির, আরাকানসহ বিশ্বব্যাপী মুক্তিকামী আন্দোলনের সাথে সংহতি গড়ে তোলা। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক ও ফোরাম তৈরি করে যৌথ গবেষণা, আর্কাইভ ও পলিসি অ্যাডভোকেসি চালানো। সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক বিনিময় (সম্মেলন, শিল্প-সাহিত্য, লিডারশিপ প্রোগ্রাম) আয়োজন করে অভিজ্ঞতা শেয়ার করা।ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও জরুরি সংহতি ব্যবস্থা গড়ে তুলে আন্দোলনে একে অপরকে দ্রুত সহায়তা করা।